NRC
অফিস টাইম। ভীড়ঠাসা অটোর খুপরিতে বসে আছি।
এটুকু স্বাধীনতার জন্যই তো বলেছিল মা
জলের দরে বেঁচেছিল তোর বাবা বাপ-ঠাকুরদার ভিটে জমি ।
অটো চলছে। আর সামনের স্টপেজ আসতেই পিছনে উঠে পড়লো দেশ।
ওদিকে অনেক জায়গা দাঁড়াবার।
তবু আমার ভাঁজ হওয়া হাঁটুতে বইছে ঘৃণাটে গরম,
উচ্ছিষ্ট শক্ত রাজনীতি আর আমার শরীর ভেদ করে ঢুকে যাচ্ছে হৃদপিন্ডে
উদ্ধত লিঙ্গ শিরদাঁড়া ফুড়ে ঢুকে যাচ্ছে উদ্বাস্তুর মাথায়।
শেষ হবার আগে একটি বার আমি তাকিয়ে দেখতে চাইলাম দেশের মুখখানা।
কিন্তু এ দ্রুত হাওয়া...আমার চোখে বালি খচখচ। বালি আর বালি খচখচ। এত এলোপাথাড়ি হাওয়া।
অটোর ভিতর আমার সামনেই বসেছিল এক দিদিমণি।
চোখে সানগ্লাস আর শাঁখাসিঁদুরে লেপা হয়ত সেও এক মা।
আমি দেখলাম ওনার ত্বক বেয়ে নেমে যাচ্ছে একটি ধানক্ষেত,নেমে যাচ্ছে উছল একটি কিশোরী,
দেখলাম,এক আকাশ মেঘ নিয়ে হঠাৎ বর্ষায় কাঁপছে দলে দলে কৃষ্ণচূড়া।
আমি দেখছি সেই মেয়েটি... সেই মেয়েটির এখনও সেই শাসন...
অভিভাবক শুধু পাল্টায় অনুষ্ঠানে সাক্ষী থাকে আগুন ।
সেই মেয়েটি এইতো উঠেছে অটোয়
দুপাশে দুটো বেনী,কলার থেকে আসছে পাঠ্যবইয়ের গন্ধ।
ভীড়ের ভিতর সেই মেয়েটিও বুঝতে পারলো দেশ ঠেকিয়ে আছে শিব শুধু পোশাক-কাটা বিভেদ।
বুঝেছি আমি ,সহেছি আমি ,বলেছি আমি দেশ।
এদিকে দাঁড়াও শরীর আমার এই তো সময়
শুধু প্রজন্ম ক’রো না নিঃশেষ।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন